যানজোটের শহর ঢাকাতে একটু শান্তির স্হান "হাতিরঝিল,ঢাকা"
ভিডিও দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।
হাতিরঝিলের ইতিহাস – এটি কোথায় অবস্থিত এবং কিভাবে যাব?
@হাতিরঝিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি দৃষ্টিনন্দন এলাকা । ইট পাথরের এই ব্যস্ত নগরীতে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে, বর্তমানে রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পটি হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র। দিনে বা রাতে যে কেউ হাতিরঝিলে ঘুরে আসতে পারেন ।বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এটি ২০১৩ সালের ২ রা জানুয়ারী সর্বসাধারনের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকি করার জন্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশন’ (এসডব্লিউও) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
@প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা , জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ করা , ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন , রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সৌন্দয্য বৃদ্ধি করা। হাতিরঝিল প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজার এরিয়া দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
@@@@@@হাতিরঝিলের অবস্থান
হাতিরঝিল প্রকল্পটির অবস্থান ঢাকার কেন্দ্রে। এটি শুরু হয়েছে কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁ হোটেল থেকে, বিস্তৃতি লাভ করেছে বনশ্রী পর্যন্ত। হাতিরঝিলকে ঘিরে আছে তেজগাঁও, গুলশান, রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, নিকেতন এবং মগবাজার। অর্থাৎ উল্লেখিত প্রতিটি এলাকা দিয়েই হাতিরঝিলে প্রবেশ করা যাবে।
@@@@কিভাবে হাতিরঝিলে যাবেন এবং ঘুরে দেখবেন
বাস কিংবা সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকার যে কোন এলাকা থেকে হাতির ঝিলে আসতে পারবেন। হাতিরঝিল প্রকল্প ঘুরে দেখার জন্য আছে চক্রাকার বাস সার্ভিস। বর্তমানে ২৯ আসনের চারটি মিনিবাস হাতিরঝিলের চারপাশের দশটি স্টপেজ থেকে যাত্রী তুলে এবং নামিয়ে দেয় । টিকেট পাওয়া যায় রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বৌবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডা এই ছয়টি কাউন্টারে। এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। রামপুরা থেকে কারওয়ান বাজার গেলে লাগবে ১৫ টাকা। আর বাসে করে পুরো হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যাবে মাত্র ৩০ টাকায়। হাতিরঝিলে প্রতিদিন বাস চলাচল শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে এবং চলে রাত ১১ টা পর্যন্ত । সরকারি ছুটির দিন বা কোনো উৎসবের দিনও চক্রাকার বাস চলাচল বন্ধ থাকেনা।
@@হাতিরঝিলে অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য লোকাল আর কোনো সার্ভিস নেই। ব্যক্তিমালিকানায় কারওয়ান বাজার থেকে কিছু মাইক্রোবাস যায় রামপুরা পর্যন্ত। যেখানেই নামুন ভাড়া ২৫ টাকা ভাড়া ভিত্তিতে।
আর যদি ব্যাক্তিগত গাড়িতে এসে থাকেন তাহলে হয়ত ভাবছেন, নিজের গাড়ি নিয়ে সে একটু ঘুরা ফেরা একটু ছবি তুলতে চাইলে গাড়ি কোথায় রাখবেন ? চিন্তা করার কিছুই নেই আপনার গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে এখানে। নির্দিষ্ট পার্কিং জোনে আপনার গাড়িটি রেখে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন । যেখানে প্রতি ২ ঘন্টায় মোটর সাইকেলের জন্য পার্কিং চার্জ ২০ টাকা, সিএনজি বা বেবি ট্যাক্সির জন্য ২০ টাকা, প্রাইভেট কারের জন্য ৩০ টাকা, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য ৩০ টাকা, মিনি কোস্টারের জন্য ৫০ টাকা এবং বাস ও ট্রাকের জন্য ১০০ টাকা। আপনি যদি সামরিক ব্যক্তি হয়ে থাকেন হাতিরঝিলের সড়কের পাশে সামরিক পার্কিং জোন আছে যেখানে আপনাকে কোনো পার্কিং চার্জ দিতে হবে না।
@@@হাতিরঝিলের অভ্যন্তরে যাতায়াতের আরেকটি ব্যবস্থা হল ওয়াটার ট্যাক্সি। এফডিসির মোড়ে যেই জায়গা থেকে বাস ছাড়ে ঠিক তার বিপরীত দিকেই রয়েছে ওয়াটার ট্যাক্সি ল্যান্ডিং স্টেশন । এই স্টপেজ থেকে দুইটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ওয়াটার ট্যাক্সি ছাড়ে । একটি গুদারাঘাটের উদ্দেশ্যে আর অন্যটি রামপুরার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। গুদারাঘাটের জন্য আপনাকে ৩০ টাকা আর রামপুরার জন্য আপনাকে ২৫ টাকা ভাড়া গুনতে হবে । তবে আপনার ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চার জন্যে জন্য কোনো ভাড়া লাগে না। যেহেতু এটি জায়গায় জায়গায় নামিয়ে দেয় না তাই ওয়াটার ট্যাক্সি যাতায়াতের তুলনায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য উত্তম। ওয়াটার ট্যাক্সির ব্যবস্থাপনা অবাক করার মত । ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাত্রীর জন্য আছে লাইফ জ্যাকেট। আর প্রত্যকেটা ওয়াটার ট্যাক্সিতেই উড়ে বাংলাদেশের পতাকা। ঝিলের দৃশ্য দেখতে অতুলনীয় একটি সফর দেওয়া যায় পানি পথে। রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরে এটি ছাড়া এমন জলজ স্থাপনা না থাকায় ২০১৭ সালের বিজয় দিবস উপলক্ষে হাতিরঝিলে নৌকা বাইচ এর আয়োজন হয়েছিল ।
@@@হাতিরঝিলের নিরাপত্তা
দিনের বেলা হাতিরঝিল মোটামোটি নিরাপদ। কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথে হাতিরঝিলের নানা যায়গায় নিরাপত্তার অভাব বাড়তে থাকে । সড়কের দুইপাশে, ব্রিজের উপরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলেও নির্জন জায়গাগুলো ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। চলাচল কারী মানুষ প্রায়ই বিরম্বন
#####তথ্যসুত্র,,,,,,অনলাইন
